ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুকের পক্ষ থেকে আইন হাতে তুলে নিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদের স্বাক্ষরিত কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যখন আমরা একটি নিরাপদ ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাঙ্গন গড়ার স্বপ্ন দেখছি, তখন ছাত্রদলের নেতাদের মুখে প্রকাশ্যে ‘আইন হাতে তুলে নিয়ে হত্যার ঘোষণা’ চরম উদ্বেগজনক। ইবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক প্রকাশ্য সমাবেশে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যার যে হুমকি দিয়েছেন এবং ফাঁসির দড়ি হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তা মূলত ফ্যাসিবাদেরই এক নতুন ও বীভৎস সংস্করণ। এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়, বরং একটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “বিগত কয়েক দিনের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও হল দখলের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। গত ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আশরাফুল ইসলাম নামে ছাত্রশিবিরের এক জনশক্তির পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করা, পাবনা ও কুমিল্লায় ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা এবং শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসু প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর মব সন্ত্রাস প্রমাণ করে যে, ফ্যাসিস্টদের পেতাত্মা এদের কাঁধে সওয়ার হয়েছে। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবং ছাত্রশিবিরের কাছে রাজনৈতিক ও আদর্শিক লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে পেশিশক্তির পথ বেছে নিয়েছে। সরকার তার ব্যর্থতা ঢাকতে ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে।”
প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও ধারাবাহিক হামলাগুলো ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনারই অংশ-মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে 'গুপ্ত রাজনীতি'র তকমা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার অপকৌশল ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। জুলাইয়ে কোনো সংগঠনের আধিপত্য বা গুণ্ডামির জন্য হাজারো মানুষ রক্ত দেয়নি।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ছাত্রশিবির সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই হত্যার হুমকি প্রদানকারী ও সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায়, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকেই বহন করতে হবে।”
ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ সকল ছাত্রসংগঠনকে প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ মিছিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, জিয়া পরিবারকে নিয়ে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য বা স্ট্যাটাস করা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ‘হয় আমরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব।’