হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক জিয়ার খাল। সেই খালটি আজ অস্তিত্ব সংকটে ধুঁকে ধুঁকে বিলীন হওয়ার পথে। একসময় এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই খালটি বর্তমানে নাব্যতা হারিয়ে কার্যত একটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খনন ও সংস্কারের অভাবে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, যা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি বহু বছর ধরে খনন বা সংস্কারের আওতায় না আসায় এর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। খালের দুই পাড় দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে খালের প্রস্থ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। ফলে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরসহ আশেপাশের একাধিক গ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ।
ঐতিহাসিকভাবে খালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এর আবেগীয় মূল্যও অনেক বেশি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাল বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে রয়েছে। যদিও দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমান, তবুও শায়েস্তাগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ জলাধারটি এখনো সেই তালিকার বাইরে রয়ে গেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
পরিবেশবিদদের মতে, খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা গেলে শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনই নয়, বরং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষি কার্যক্রমে সহায়তা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ অবস্থায় শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার সর্বস্তরের জনগণের জোর দাবি অবিলম্বে “জিয়ার খাল পূর্ণাঙ্গ খনন ও সংস্কার করে এর পূর্বের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হোক। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধার করা হলে তা হবে শুধু একটি খাল নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও জনজীবনের রক্ষাকবচকে পুনর্জীবিত করা।