রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
উল্লাপাড়ায় বোরোয় ঘিরে কৃষকদের যত পরিকল্পনা

উল্লাপাড়ায় বোরোয় ঘিরে কৃষকদের যত পরিকল্পনা

সাহারুল হক সাচ্চু

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মাঠের পর মাঠ জুড়ে আবাদ করা বোরো ধান ফসল ঘিরে কৃষকেরা নানা স্বপ্ন আর আশা পরিকল্পনা নিয়ে দিন পার করছেন।  আগাম করে আবাদ করা বোরো ধান ফসলের ছড়া বেরিয়েছে। আবার মধ্যম সময় আবাদ করা ধান পুরোপুরি থোড় আর নাবী  আবাদের  ধান এখন কাইচ থোড় বলে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে। উল্লাপাড়ায় বোরো ধান ফসল কৃষকদের কাছে বছরের প্রধান আবাদ হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা তথ্যে  এবারের মৌসুমে ৩০ হাজার ৩৭৫ হেক্টর পরিমাণ জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বোরো আবাদের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিলো ৩০ হাজার ৩৭০ হেক্টর। সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি পরিমাণ জমিতে আবাদ হয়েছে। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর , সলঙ্গা , হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বেশিরভাগ  মাঠে কৃষকেরা আগাম করে   বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় মাঠে  ব্রি-ধান ৮৯ , ব্রি ধান ৯২ , ব্রি ধান ১০০ , ব্রি-ধান ১০১, ব্রি-ধান ১০৮ , এস এল এইট এইচ জাতের ধানসহ আরো কয়েক জাতের ধান আবাদ করেছেন বলে  জানা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে আগাম করে আবাদ করা ধানের ছড়া বেরিয়েছে। অনেক জমির ধানে পাক ধরেছে।  নাবী আবাদের ধান এখন কাইচ থোড় ও মাঝামাঝি সময়ে আবাদ করা ধান পুরোপুরি থোড় দেখা গেছে। সেচ নির্ভর বোরো ধান ফসলের আবাদে মাঠে সেচ মেশিনগুলো সময়মতো চালু  রাখা হচ্ছে । বোরো ধান ফসলের জমিতে দরকার পরিমাণ পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে খোলামেলা কথা বলে জানা গেছে বোরো ধান ফসল ঘিরে তারা সংসার জীবনের নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। বসতবাড়ীতে নতুন করে বসতঘর দেওয়া , পরিবারের ছেলে মেয়ের বিয়ে দেওয়া অনুষ্ঠান বাবদ বোরো ধান বেচে খরচ মেটানো হয়। আবার ধার দেনা নতুন উঠা বোরো ধান বেচে শোধ করা হয়ে থাকে বলে জানানো হয়। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে  উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের ছোটো বাখুয়া মাঠের প্রায় আশি ভাগ বোরো ধান জমির ছড়া বেরিয়েছে। কিছু কিছু জমির ধানে পাক ধরেছে। আগাম করে মাঠটিতে আবাদ করা হয়েছে। সলঙ্গা ইউনিয়নের আঙ্গারু , রাণীনগর , চরবেড়া , গোজা মাঠের বেশীরভাগ জমির বোরো ধান ফসলের ছড়া বেরিয়েছে। আবাদী মাঠগুলোয় ডিজেল ও বিদ্যুত চালিত অগভীর নলকূপ শ্যালো মেশিনগুলো সময়মতো চালিয়ে জমিতে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। গভীর নলকূপগুলো চালিয়ে পানি সেচে দেওয়া হচ্ছে। নাগরৌহা জলি বিল মাঠে কৃষক আঃ করিম আগাম করে প্রায় বারো বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। এরইমধ্যে ধানে ছড়া বেরিয়েছে। তিনি বিদ্যুত চালিত অগভীর নলকূপের পানিতে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। একই মাঠে গোটা চারেক ডিজেল চালিত অগভীর নলকূপের শ্যালো মেশিনে জমিতে পানি সেচ দিয়ে বোরো ধান ফসলের আবাদ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা জানান বোরো ধান ঘিরে তারা সংসারের নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। বোরো ধান বেচে বসতভিটেয় নতুন ঘর দেওয়া, পরিবারের ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠান , হালখাতায় দায় দেনা মেটান। 

সলঙ্গা ইউনিয়নের গোজা মাঠে কৃষক মহরম আলী প্রামাণিক নিজের প্রায় চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তার জমির এক কোণায় প্রায় দশ বছর হলো  ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন বসিয়ে নিয়েছেন। তার নিজের জমি বাদে অন্যদের বিঘা পাচেক জমিতে পানি সেচ দিচ্ছেন। বিনিময়ে ফসলের সিকি ভাগ নেবেন বলে জানানো হয় । তিনি বলেন এবারে বোরো ধান বেচে সংসারের দরকারী কয়েকটি জিনিস আগে কিনবেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সূবর্ণা ইয়াসমিন সূমী বলেন বোরো ধান আবাদে কৃষকেরা আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার করেছেন। কৃষকেরা স্বল্প মেয়াদী বেশি হারে ফলনশীল নানা জাতের ধান ফসলের আবাদ করেছেন।  গোটা উপজেলায় বোরো ধান ফসলের আবাদে কৃষকেরা  আগাছা বাছাই ,  সময়মতো সার দেওয়া , সেচ নির্ভর বোরো ধান ফসলের জমিতে পানি সেচ দেওয়া ও পরিচর্যা করছেন। সব মাঠেই বোরো ধান ফসল ভালো আছে।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন