সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
বেনাপোলে সরকারি হাসপাতালের দাবিতে সর্বস্তরের মানুষের মানববন্ধন

বেনাপোলে সরকারি হাসপাতালের দাবিতে সর্বস্তরের মানুষের মানববন্ধন

মো. সেলিম রেজা তাজ

বেনাপোল পৌরসভায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) উত্তাল হয়ে উঠেছে সীমান্তবর্তী এই জনপদ। সকাল ১০টায় বেনাপোল বলফিল্ড এলাকায় জড়ো হয়ে ‘বেনাপোলবাসীর’ ব্যানারে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

‎​মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বেনাপোল একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর ও বৃহৎ পৌরসভা,৩০ হাজারেরও বেশী জনসংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। জরুরি চিকিৎসার জন্য স্থানীয়দের প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা যশোর জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। যাতায়াতের দীর্ঘ সময় ও যানজটের কারণে পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে।
‎
‎​বিক্ষোভকারীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে ফুটে উঠেছে আর্তনাদ ও ক্ষোভ। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শ্লোগান ছিল:
‎​"রক্ত দেব রাজপথে, তবুও হাসপাতাল গড়ব।"
‎​"বেনাপোলে হাসপাতাল চাই।"
‎​"ওহে মহারাজ, আর কত প্রাণ বিসর্জন দিলে আপনার নীরবতা ভাঙবে?"
‎
‎​এদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নীল ও সাদা ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের বিশাল একটি অংশ রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি, একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত হাসপাতাল বেনাপোলের মানুষের দীর্ঘদিনের মৌলিক অধিকার, যা থেকে তারা বঞ্চিত হয়ে আসছে।
‎
‎বেনাপোল-যশোর মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ায় যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবণ,ভয়াবহ যানজটের সৃস্টি হয়,যা স্বাভাবিক করতে পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়াও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যগণকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়।
‎
‎​বিক্ষোভ চলাকালীন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি পেশ করেন এবং ঘোষণা দেন যে, অবিলম্বে হাসপাতাল নির্মাণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
‎
‎​আন্দোলনকারীদের বক্তব্য:- "প্রশাসন আমাদের বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের সন্তানদের জীবন রক্ষায় এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।"
‎
‎প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনপ্রকার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার করেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন