বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারেও ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই মূল্য আজ রাত ১২টার পর থেকেই সারাদেশে কার্যকর হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে রয়েছে। সেই লোকসান কমাতে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অকটেনের দাম। প্রতি লিটার অকটেনে ২০ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০ টাকা। পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও কৃষিকাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া গৃহস্থালি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত কেরোসিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকায়।
এর আগে সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ বিপিসি জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছিল। তখন ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে গণপরিবহনের ভাড়া এবং পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া সরাসরি বেড়ে যাবে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সেচ মৌসুমে ডিজেলের বাড়তি দাম প্রান্তিক কৃষকদের ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা তৈরি করবে।
সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মধ্যরাত থেকে বর্ধিত মূল্য কার্যকর হওয়ার আগেই অনেককে ট্যাঙ্কি পূর্ণ করে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে পুনরায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম কমানোর বিবেচনা করা হবে।