সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
অবৈধ অস্ত্র কারবারির স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অবৈধ অস্ত্র কারবারির স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। এই ঘটনায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের যোগসূত্র মেলায় গ্রেপ্তারকৃত অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল অবশেষে আদালতে নিজের দায় স্বীকার করেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে সিআইডি তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করার পর এর রহস্য উন্মোচনে নামে গোয়েন্দারা। মাইক্রো অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি ২০১৭ সালে বৈধভাবে দেশে আমদানি করা হয়েছিল। আমদানির পর অস্ত্রটি রাজধানীর পুরানা পল্টন ও চকবাজারের দুটি স্বনামধন্য দোকান ঘুরে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’-এর মালিকানায় যায়।

তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মালিক হেলাল দীর্ঘ সময় ধরে আইনি বাধ্যবাধকতা তোয়াক্কা করেননি। ২০১৪ সালের পর দোকানের লাইসেন্স নবায়ন না করেই তিনি অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ ও মজুত করছিলেন। লাইসেন্সবিহীন এই অবৈধ অস্ত্রটি ঠিক কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে খুনিদের হাতে পৌঁছালো, তা নিশ্চিত করতেই গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছিল সিআইডি।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। ওইদিন মতিঝিলে জুমার নামাজ ও নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পথে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে শুরুতে একটি মামলা দায়ের করেন, যা হাদির মৃত্যুর পর পরবর্তীতে নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। অস্ত্র সরবরাহকারীর এই জবানবন্দি মামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন