ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ)।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) শাখা বৈছাআ’র মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম প্রেরিত বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইবিতে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধর্মীয় দিক বিবেচনা না করেই সকল শিক্ষার্থীর জন্য ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ এবং ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স দুটিকে ক্রেডিট কোর্স হিসেবে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও ইসলামিক স্টাডিজ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত তাদের ধর্মীয় অধিকার হরণের নামান্তর। আমরা এমন অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বিগ্ন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাস ও মতাদর্শের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করেন। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের শিক্ষাকে সকল বিভাগের জন্য ক্রেডিট কোর্স হিসেবে বাধ্যতামূলক করা স্পষ্টতই বাংলাদেশপন্থী চেতনার পরিপন্থী, একইসাথে বৈষম্যমূলক।
বিবৃতিতে দুই দাবি জানানো হয়, অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের স্ব-স্ব ধর্মীয় শিক্ষা বা ‘নৈতিক শিক্ষা’ পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়নে সকল ধর্মের ও মতের শিক্ষার্থীদের ইনসাফ নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর ১৩১ তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পর ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ ও ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স দুটিকে বাধ্যতামূলক ক্রেডিট কোর্স করা হয়। এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত নন-ক্রেডিট কোর্স হিসেবে যেকোনো একটি কোর্স করতে হতো শিক্ষার্থীদের।