যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপসহ পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের মোস্তাকিম পিয়াস এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শফিকুল ইসলাম।
মোস্তাকিম পিয়াস যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি’তে কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে এবং শফিকুল ইসলাম ‘মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে ‘ফল-২০২৬’ সেশনে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ লাভ করেছেন।
জানা যায়, মোস্তাকিম পিয়াস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে আইসিটি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। একই বছরের নভেম্বরে আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ওভারঅল ব্যান্ড স্কোর ৭ অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে জিআরই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩২৪ স্কোর অর্জন করেন। গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে তিনি শুরু থেকেই বিভিন্ন গবেষণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং এখন পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক জার্নাল ও কনফারেন্সে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও ইরাসমাস প্লাস স্কলারশিপের মাধ্যমে জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল হেসেন (টিএইচএম)-এ মাস্টার্স থিসিস গবেষণায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
পাশাপাশি তিনি এজ বাংলাদেশ-এর একটি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ফান্ডেড প্রকল্পে ডাটা অ্যানালিস্ট হিসেবে প্রায় দেড় বছর কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি আইইইই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান এবং স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিজের সাফল্যের যাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে তিনি আইইএলটিএস ও জিআরই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করেন। প্রথমদিকে স্কলারশিপ না পেলেও পরবর্তীতে গবেষণার অভিজ্ঞতা ও অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি এই সুযোগ লাভ করেন।
শফিকুল ইসলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি, ক্লাবিং এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়, এই বিশ্বাস থেকেই তার যাত্রা শুরু। বড় স্বপ্ন ও সাহস নিয়ে তিনি সবসময় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফুল ফান্ডেড পিএইচডি অফার পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চান।
তিনি আরও বলেন, এই অর্জন শুধু তার একার নয়; যারা তাকে সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও সমর্থন দিয়েছেন তাদের সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, যেন ভবিষ্যতের পথ আরও সুন্দর হয়।