সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ইরানকে অস্ত্র না দিতে শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি

ইরানকে অস্ত্র না দিতে শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেক্স

ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে সরাসরি আশ্বাস পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের ‘মর্নিংস উইথ মারিয়া’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি শি জিনপিংকে একটি চিঠি লিখে ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট ফিরতি চিঠিতে নিশ্চিত করেছেন যে, চীন তেহরানকে কোনো অস্ত্র দিচ্ছে না।

আগামী মাসে বেইজিংয়ে দুই নেতার একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, “চীনের তেলের প্রয়োজন আছে, আমাদের নেই।” সাক্ষাৎকারের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছেন, যা নিয়ে চীন অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তিনি আরও লিখেন, “কয়েক সপ্তাহ পর আমি যখন চীনে পৌঁছাব, প্রেসিডেন্ট শি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবেন।” তবে হোয়াইট হাউস থেকে এই দাবির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, কারণ প্রণালিটিতে এখনো নৌ চলাচল সীমিত।

এদিকে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আরব সাগরে কঠোর নৌ অবরোধ শুরু করেছে ওয়াশিংটন। কিন্তু গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ অমান্য করে চীনের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়। এই ঘটনার পর ইরান থেকে চীনের তেল আমদানির পথ পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বেইজিংকে একটি ‘ভারসাম্যহীন বৈশ্বিক অংশীদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, চীন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে তেল মজুত করছে এবং নিজস্ব পণ্যের রপ্তানি সীমিত রাখছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চীন অন্য দেশ থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারলেও ইরানি তেল আমদানি করতে পারবে না।

অন্যদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী যে কোনো দেশের জাহাজের ওপর এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর হবে। এই অবরোধ নিশ্চিত করতে আরব সাগরে অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে ৩০০-এর বেশি উচ্চ প্রশিক্ষিত নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা অবরোধের তীব্র সমালোচনা করে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করছে।

সংকট নিরসনে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি চার দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন। তার এই প্রস্তাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার চীনের জাহাজ কর্তৃক মার্কিন অবরোধ ভাঙার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন