পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৩) জীবনসংগ্রামের এক নীরব যোদ্ধা। দীর্ঘ ১৪ বছরের কর্মজীবনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তাকে নতুন করে পথচলা শুরু করতে হয়েছে।
জানা যায়, তিনি একসময় উদ্দীপন, কোডেক ও প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে একে একে সেই চাকরিগুলো হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তিনি গ্রামীণফোনে সেলস অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। গত ছয় মাস ধরে বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে সিম বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন।
দুই সন্তানের জনক মোস্তাফিজুর রহমানের বড় ছেলে বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তিনি নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনের উপার্জন খুব বেশি না হলেও, পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি।
নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা বলতে গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেয়েও আজ ভাগ্যের পরিহাসে এই অবস্থানে এসে দাঁড়াতে হয়েছে। সংসারের দায়ভার সামলাতে গিয়ে ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা পরিশোধ করা তার পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তবুও হতাশ হননি তিনি। জীবনের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—বড় ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ানো। কিন্তু বর্তমান আর্থিক সংকট সেই স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও মোস্তাফিজুর রহমানের এই লড়াই শুধু একজন মানুষের গল্প নয়, বরং সমাজের অসংখ্য সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি—যারা প্রতিদিন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে, তবুও স্বপ্ন দেখতে ভোলেন না।