যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মণিরামপুর ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়ম ও বৈষম্যমূলক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে বোতলে তেল বিক্রি, কাগজপত্র বিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনে নির্বিচারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার বেশি তেল সরবরাহে কড়াকড়ি থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নেই কোনো সীমাবদ্ধতা। তারা সহজেই তাদের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে পারছেন-যা স্পষ্টভাবে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন এবং সাধারণ জনগণের প্রতি চরম বৈষম্যের উদাহরণ। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,“ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমরা ৫০০ টাকার বেশি তেল পাই না। অথচ কিছু লোক এসে কোনো নিয়ম না মেনেই বেশি তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। এটা কি ন্যায়বিচার?”
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈতনীতি শুধু ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন করছে না, বরং পুরো জ্বালানি বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এতে করে অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং আইন-শৃঙ্খলার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এত অভিযোগ ও অনিয়মের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অনিয়ম?
সচেতন মহলের জোর দাবি-অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মণিরামপুর ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বোতলে তেল বিক্রি, কাগজপত্রবিহীন গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈষম্যমূলক তেল বিতরণ বন্ধ না করলে জনদুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে।