যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে চলছে চরম অরাজকতা। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে কাগজপত্র ছাড়াই যানবাহনগুলোতে তেল সরবরাহ এবং নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্লাস্টিকের বোতল ও জারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসন নামমাত্র একটি অভিযান চালালেও, এরপর থেকে রহস্যজনকভাবে সব তদারকি বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে উপজেলার তিনটি পাম্পে ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকারের রেজিস্ট্রেশন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাইয়ের বালাই নেই। এমনকি ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনগুলোকেও বাধাহীনভাবে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। জিএন ফিলিং স্টেশনে কথা হয় চালক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “ভাই, এখানে কেউ কাগজ দেখে না। টাকা দিলেই তেল মেলে। লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক-মালিকরা শুধু বিক্রির ধান্দায় থাকেন।”
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মণিরামপুরের পাম্পগুলোতে প্লাস্টিকের বোতল ও জারে তেল বিক্রি থামছে না। সাধারণ প্লাস্টিকের বোতলে জ্বালানি পরিবহন অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ালেও পাম্প কর্মচারীরা তা মানছেন না।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এভাবে খোলা বোতলে তেল বিক্রি একদিকে যেমন নাশকতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের ব্যাপক অভিযোগের মুখে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসন পাম্পগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। কিন্তু সেই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিস্থিতি আবার আগের রূপে ফিরে গেছে। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের ওই অভিযান ছিল কেবলই ‘আইওয়াশ’। ৯ এপ্রিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো তদারকি বা অভিযান চোখে পড়েনি। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, “সবকিছু চোখের সামনে হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন যেন দেখেও দেখছে না। একদিন জরিমানা করে বাকি দিনগুলো কি চোখ বন্ধ করে রাখার চুক্তি হয়েছে?।
কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ করায় সড়কে বাড়ছে অদক্ষ চালক ও অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা, যা সরাসরি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি বোতলে তেল বিক্রির ফলে অপরাধী চক্রের জন্য নাশকতা চালানো সহজ হয়ে পড়ছে। বিআরটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি:
১. পাম্পগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা।
২. কাগজপত্র ছাড়া এবং বোতলে তেল দেওয়া পাম্পগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা।
৩. জনস্বার্থে প্রশাসনের কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী তদারকি নিশ্চিত করা।
মণিরামপুরে “টাকা দিলেই তেল” এই অসাধু সংস্কৃতি দ্রুত বন্ধ না হলে সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এখন দেখার বিষয়-প্রশাসন কি কেবল একদিনের অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি জনস্বার্থে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেবে?