জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে যখন নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতি, ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে ভোজ্যতেলের বাজার। রাজধানীর খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে থাকা ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত তেল বাজার থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকানগুলোর তাকে ছোট বোতলের কোনো সরবরাহ নেই। দু-একটি দোকানে ৫ লিটারের বোতল দেখা গেলেও তার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে ডিলাররা ১ ও ২ লিটারের বোতল সরবরাহ করছেন না। সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে ৫ লিটারের বোতল দেওয়া হলেও তা কিনতে হচ্ছে গায়ের মূল্যে, ফলে ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে গিয়ে বিতণ্ডায় জড়াতে হচ্ছে বিক্রেতাদের।
বাজারে সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা এবং ৫ লিটার ৯৫৫ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন ১৭৬ টাকা এবং পাম তেল ১৬৪ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। বাজারে খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় এবং পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। অর্থাৎ লিটার প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছেন। অনেক দোকানে সামনে 'তেল নেই' বলা হলেও অতিরিক্ত অর্থ দিলে ভেতর থেকে তেল বের করে দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতা মির্জা ওলিউল করিম জুম্মান বলেন, "নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল বাজার মনিটরিং জোরদার হবে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পণ্যের দাম, সরকারের উচিত দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।"
দোকানিদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। তবে সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, যথাযথ তদারকির অভাবে সিন্ডিকেট করে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার ফলে সামর্থ্যের অভাবে ৫ লিটারের বোতল কিনতে না পারা নিম্ন আয়ের মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।