রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক সাধারণ কর্মচারীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া—এমনই এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নাম ব্যবহার করে অন্তত ১০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন মনিরুজ্জামান লিমন নামে এক অফিস সহকারী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে লিমন প্রতিটি চাকরির জন্য ১৪ থেকে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেন। মিঠাপুকুর উপজেলার আনওয়ারুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার ভাবির চাকরির জন্য লিমনের সাথে ১৪ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি হয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য লিমন দাবি করেন, খোদ জেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের সাথে তার বিশেষ সখ্যতা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার আগেই দুই দফায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম গ্রহণ করেন লিমন। বাকি টাকা ভাইভা ও চূড়ান্ত নিয়োগের পর দেওয়ার কথা ছিল।
গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত হলে দেখা যায়, আনওয়ারুলের ভাবি উত্তীর্ণ হননি। এরপর থেকে টাকা ফেরত পেতে লিমনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
টাকা ফেরতের চাপে পড়ে লিমন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আনওয়ারুলের অ্যাকাউন্টে মাত্র ২৭ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তীতে ৫ মার্চ ১ লাখ টাকার একটি সিটি ব্যাংকের চেক দিলেও ব্যাংক থেকে জানানো হয়, সেটি একটি **বন্ধ হয়ে যাওয়া হিসাবের চেক**। অর্থাৎ, ভুক্তভোগীকে শান্ত করতে জেনেশুনেই ভুয়া চেক দিয়েছেন এই কর্মচারী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান লিমনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার দাবি:"আমার সাথে অনেকের ব্যবসায়িক লেনদেন থাকে। এই টাকা বা চেক সম্ভবত কোনো ব্যবসার কারণে দেওয়া হয়েছে। এর সাথে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সম্পর্ক নেই।"
তবে রাত ১২টা ২৬ মিনিটে কেন ‘ব্যবসায়িক’ টাকা পাঠানো হলো—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের অবস্থান রহস্যজনক। নিজের অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে তার নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তিনি ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়েছে।
সরকারি অফিসের পিয়ন বা সহকারীদের এই ধরণের বেপরোয়া সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সাধারণ মেধাবী প্রার্থীদের স্বপ্ন আজীবন ফিকে হয়েই থাকবে। ভুক্তভোগীরা এখন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।